Users on page

Now online: 1
Overall: 3094

আজকের বাংলা তারিখ

  • আজ মঙ্গলবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং
  • ১২ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)
  • ১৮ই রজব, ১৪৪০ হিজরী
  • এখন সময়, সকাল ৭:২৪

Calendar

School Code: 4279

Eiin Code:119716

Photo Gallery

অধ্যক্ষ

মো: শাহ আলম
মাতা: মোছা: লাইলী বেগম,
পিতা মো: মোকছেদ আলী মুন্সি,
গ্রাম:+পোষ্ট: কুতুপুর, থানা: সরিয়াকান্দি, জেলা: বগুড়া।

(i) বক্তব্য: প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা নদীবিধ্বস্ত সারিয়াকান্দি উপজেলার আপামর জনসাধারণের পক্ষ থেকে এবং সারিয়াকান্দি আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রথমে ১৯৯১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ১৯৯১ সালের ২৮ নভেম্বরের ৭নং সেক্টরের অধীনে বীরমুক্তিযোদ্ধা সারিয়াকান্দি থানা আক্রমন করে ১৮জন পাকিস্তানি সেনা ও ১৯জন রাজাকারকে হত্যা করতে গিয়ে যে ৩জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত বরণ করেছেন-তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ৪০৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট সারিয়াকান্দি উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ ভূখন্ডই যমুনা নদী গর্ভে বিলীন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০১ সালের পুপুলেশন সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪০০৮৩ লোকসংখ্যার মথ্যে পুরুষ ১২২৮৮৪ এবং নারী ১১৭৮৯৯ এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৫৮৮জন। উপজেলার প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীই নারী হলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী পুরুষ শিক্ষার হার ৩৭.১% এবং নারী শিক্ষার হার ২৭.৩%। সার্বিক উন্নয়নের জন্য পুরুষেদের পাশাপাশি নারীদের সমান ভূমিকা রয়েছে। এই বিবেচনা এ উপজেলার নারীদেরকে শিক্ষিত রূপে গড়ে তোলার তাগিত অনুভূত হয় অনেক আগে থেকেই। বিট্রিশ আমলে বগুড়া জেলা প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় নঁওখিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯০১ সালে। এছাড়াও ১৯০৩ সালে দেবডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাগলধরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯০৪ সালে। সারিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটফুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কাজলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯০৫ সালে। এসকল অধ্যয়ন করে পরবর্তীতে উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা গড়ে উঠেছেন এবং দেশের জন্য কাজ করেছেন। সে তুলনায় এখানকার নারীদের সফলতার হার খুব কম। বিষয়টি উপলদ্ধি করে এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে অত্র এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কৃষিবিদ জনাব আব্দুল মান্নান(যিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদ সদস্য), ১৯৯৮ সালে তার নিজ নামে এই কলেজটি স্থাপন করেন। নদী বিধ্বস্ত সারিয়াকান্দি উপজেলার অনগ্রসর নারীগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায় তিনি নিজ অর্থায়নে প্রায় ১ একর জমির উপর সারিয়াকান্দি আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজ টি প্রতিষ্ঠা করেন কলেজ। সারিয়াকান্দি উপজেলা সদর থেকে ০.২৫ কি.মি উত্তরে যমুনা নদী তীরবর্তী এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কলেজটি স্থাপিত হয়েছে। কলেজের ভবন ইউ-প্যাটার্ণ। যার পশ্চিম পার্শ্বে টিনসেড বিল্ডিং এবং উত্তর পার্শ্বে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা এবং পূর্ব পার্শ্বে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা দুটি দ্বিতল ভবন এবঙ এর চারপাশ বাউন্ডারী দেযাল দ্বারা পরিবেষ্টিত। কলেজটি দক্ষিণ ো পশ্চিম উভয় পার্শ্বে পাকা রাস্তা সংলগ্ন। কলেজে মোট ১৯টি কক্ষ রয়েছে। যার শ্রেণি কক্ষ ১০টি, কম্পিউটার কক্ষ ১টি, লাইব্রেরী কক্ষ ১টি ল্যাবরেটরী কক্ষ ৩টি, অধ্যক্ষ কক্ষ ১টি। শিক্ষকমন্ডলীর কক্ষ ১টি ও ছাত্রী কমনরুম ১টি। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগে মোট ১৮টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে প্রায় দুইশত ছাত্রী এখানে অধ্যয়ন করছে এবং ২৩ জন শিক্ষক ও ০৮জন কর্মচারী প্রতিষ্ঠানে নিয়জিত আছেন। বিগত ২০১১ ইং সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করে এ প্রতিষ্ঠান। মাননীয় সংসদ পত্মী এবং সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাবা জাহাদারা মান্নান এ কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি হিসাবে তার নেতৃত্বে শিক্ষানুরাগী এক কার্যকর ও শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কলেজটি পরিচালনা করে আসছেন। যার ফলে প্রতি বছর এ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে নারী শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যেই এ কলেজের অনেক শিক্ষাথী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে সম্মানজনক পেশায় আত্ননিয়োগ করেছে। সর্বোপরি মাননীয় সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান, সভাপতি মিসেস সাহাদারা মান্নান ও গভর্ণিং বডির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা বৃন্দ, নিয়োজিত সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কলেজটি উত্তরোত্তর সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কলেজটিতে ডিগ্রী শাখা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।ডিগ্রী শাখা চালু হলে স্থানীয় নারীসমাজ বিশেষ করে নারীগণ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করবে। আর শিক্ষিত নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস এই উপজেলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। পরিশেষে, উপজেলার শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ সকলের শুভাশিষ কামনা করছি।